মো: হাফিজুর রহমান
বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান (বরিশাল)
বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভ্যানচালক সুমন সিকদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি ও নিহতের স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কবাই ইউনিয়নের চৌমাথা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কবাই চৌমাথা থেকে শুরু হয়ে ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন নিহত সুমনের মা মনোয়ারা বেগম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেন মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হাসান, জাকির হাওলাদার ও বাবু মৃধা।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান রুবেল বলেন, “ভ্যানচালক সুমন সিকদারকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হত্যাকারীদের কাউকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।” তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
নিহত সুমনের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার দাবি, মনা তালুকদারের সঙ্গে তার ছেলের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং একপর্যায়ে মনা তার ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার বাড়ির সামনে তার ছেলে সুমনকে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ, রিগান হাওলাদার, মনা তালুকদার ও আরেকজন সুমন সিকদারসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেন। তিনি ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর কবাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান রুবেল আইনগত সহযোগিতাসহ তাদের পরিবারের পাশে রয়েছেন এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, একজন ভ্যানচালককে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তাদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।