• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
একনেকে দ্রুত পাস হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সন্ত্রাস-জুয়া-মাদকের বিরুদ্ধে রাজপথে যুবদল, নেতৃত্বে সাবেক কমিশনার নাছির উদ্দীন মানবসভ্যতা জামালপুরে ৩ দিনব্যাপী ফল মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে শত্রুতা ভুলিয়ে দেয় যে মুহূর্ত কালিয়াকৈরে কারখানার পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ, হাসপাতালে শয্যাসংকট অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে সিঙ্গাইরে একজন কারাদণ্ডিত, জব্দ হলো ২টি ট্রাক জননী আইডিয়াল একাডেমীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হলেন আব্দুল্লাহ আল সাদী প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও অকার্যকর শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র দুর্গাপুরে অবৈধভাবে মিড ডে মিলের রুটি উৎপাদন: ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রতিষ্ঠার ৯ বছরেও অকার্যকর শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র

মোঃ রবিউল ইসলাম খাঁন রবিন, স্টাফ রিপোর্টার / ৩১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

দেশের মোট উৎপাদিত চায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সিলেট অঞ্চল থেকে। অথচ সেই চায়ের প্রায় পুরোটাই এখনো বিক্রি হয় চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে। ৯ বছর আগে যাত্রা শুরু করলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র। ফলে বাড়তি পরিবহন ব্যয় ও নানা জটিলতায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন চা বাগান মালিকরা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সরকারি উদ্যোগের অভাবেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাচ্ছে না কেন্দ্রটি।

২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র। এটি দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখনো চা বেচাকেনার মূল কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি। সিলেট অঞ্চলের ১৩৫টি চা বাগানে দেশের মোট উৎপাদিত চায়ের ৯০ শতাংশের বেশি উৎপাদন হলেও প্রায় ৯৮ শতাংশ চায়ের নিলাম হয় চট্টগ্রামে।

চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চা পাঠাতে হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, অন্যদিকে দীর্ঘ যাত্রায় চায়ের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফুলতলা চা বাগানের ম্যানেজার এসএনএম মাহবুব আলম মিজবাহ বলেন, “চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে চা পাঠাতে অনেক বেশি খরচ হয়। শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে বিক্রি করা গেলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে, পাশাপাশি চায়ের মানও ভালো থাকবে।” একই ধরনের মতামত দিয়েছেন চা শিল্পের আরও কয়েকজন সিনিয়র টি প্ল্যান্টার।

চা ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্র এখনো অবকাঠামোগতভাবে পূর্ণাঙ্গ নয়। এখানে পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং সহায়তার অভাব রয়েছে।

সিলেট নিনা-আফজাল টি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল রশীদ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামে ক্রেতা-বিক্রেতারা একটি গ্রুপের মতো ব্যবসা পরিচালনা করেন। তারা সিলেটে এসে চা কেনাবেচায় আগ্রহ দেখান না, বরং অন্যদেরও নিরুৎসাহিত করেন।”

শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রের পরিচালক এস এম এন ইসলাম মুনির বলেন, কেন্দ্রটিকে কার্যকর ও গতিশীল করতে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ক্রয়-বিক্রয়ের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সরকার নির্দেশনা দিলে ক্রেতারা সিলেটে আসতে বাধ্য হবেন।”

বর্তমানে শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রে পুরো মৌসুমে মাত্র ২০ থেকে ৩০ লাখ কেজি চা নিলাম হয়। বিপরীতে একই সময়ে চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে ৮ থেকে ১০ কোটি কেজির বেশি চা নিলাম হয়ে থাকে।

চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, শ্রীমঙ্গল চা নিলাম কেন্দ্রকে কার্যকর করতে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই শিল্পে সিলেট অঞ্চলের উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরেই বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category