লেখক, মোঃ নাজমুল ইসলাম চৌধুরী
ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা, কালো ধোঁয়া, উচ্চমাত্রার হর্নের শব্দ, অসহনীয় যানজট, বছরের পর বছর রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি, প্রধান সড়কে যত্রতত্র পার্কিং, ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য, রাস্তা অবরোধ করে মিছিল-মিটিং, হকারের উৎপাত, যত্রতত্র বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, সাইনবোর্ড ও চিকা, এলোমেলো পানির লাইন, বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে ঝুলে থাকা ডিজিটাল ক্যাবল, ভ্রাম্যমাণ দোকান, রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী—সব মিলিয়ে যেন এক অপরিকল্পিত মহানগরীর মহাচিত্র।
তবুও এ নগরীর নাম চট্টগ্রাম :-
এ শহর শুধু ইট-পাথরের নয়; এটি আমাদের জন্মভূমি, শৈশবের স্মৃতি, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভালোবাসার শহর। এটি বাংলাদেশের প্রধান বন্দর, অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র, পাহাড়-সমুদ্রের অপূর্ব মিলনভূমি এবং অসংখ্য মানুষের জীবন-জীবিকার অবলম্বন।
একটি সভ্য নগরী কেবল উঁচু ভবন দিয়ে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, আইনের সুশাসন এবং নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও সুন্দর করে।
আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম চাই— যেখানে থাকবে নির্মল বাতাস, পরিচ্ছন্ন রাস্তা, যানজটমুক্ত সড়ক, নিরাপদ ফুটপাত, দখলমুক্ত জনপথ, সুশৃঙ্খল পার্কিং, শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ, পরিকল্পিত নগরব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক সংস্কৃতি।
মনে রাখতে হবে, শহরকে শুধু প্রশাসন নয়, নাগরিকরাও গড়ে তোলে। নিজের দায়িত্ব পালন, আইন মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনস্বার্থকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়াই হতে পারে একটি আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ার প্রথম পদক্ষেপ।
আসুন, অভিযোগের পাশাপাশি দায়িত্বও গ্রহণ করি। সমালোচনার সঙ্গে সমাধানের পথও খুঁজি। আমাদের প্রিয় চট্টগ্রামকে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও বাসযোগ্য, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলি।
কারণ, হাজার সমস্যার মাঝেও এই শহরই আমাদের পরিচয়, আমাদের গর্ব, আমাদের আবেগ।
ভালোবাসি চট্টগ্রাম। ভালোবাসি আমাদের জন্মস্থান, বন্দর, পর্যটন ও বাণিজ্যের এই অবিস্মরণীয় নগরী।
ধন্যবাদ।