দিনের আলোয় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত থাকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। পরিবার, বন্ধু কিংবা ভ্রমণপিপাসু মানুষের কোলাহলে মুখরিত থাকে পুরো সৈকত এলাকা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে এই সৈকতের চিত্র। রাত গভীর হওয়ার আগেই সৈকতের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে ঝাউবাগানসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইকারী ও অপরাধচক্রের সদস্যরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর সৈকতের নির্জন অংশে অবস্থান নেয় সংঘবদ্ধ কিছু চক্র। সুযোগ বুঝে তারা পর্যটকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু যুবক-যুবতী পর্যটকদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ছিনতাই করে। বিশেষ করে নতুন ও অপরিচিত পর্যটকদের টার্গেট করা হয় বেশি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সৈকতের আশপাশের কিছু এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপও বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর কিছু নারী ও তরুণীকে বিভিন্ন পর্যটকের সঙ্গে দরকষাকষি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একই সঙ্গে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা এক পর্যটক জানান, “দিনের বেলায় পরিবেশ খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু রাতের দিকে সৈকতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছি। কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তি ঘিরে ধরার চেষ্টা করে। পরে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি।”
স্থানীয় এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। পুলিশ টহল থাকলেও সব জায়গায় নজরদারি থাকে না। এতে পর্যটকরা ঝুঁকিতে পড়ছেন।”
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ অপরাধের শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রের সুনাম রক্ষায় সন্ধ্যার পর সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, ঝাউবাগানে নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি। অন্যথায় পর্যটকদের আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।