• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

ফাতেমাকে টেনে নেওয়া সেই কুমির রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর

আজিজুল গাজী / ৭৯ Time View
Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট।

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তারকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল মাজারের পূর্ব পাড়সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে কুমিরটিকে সফলভাবে আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাণীটিকে খুলনার বয়রায় অবস্থিত রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী, করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুনসহ প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজার এলাকার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেশি-বিদেশি পর্যটক, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দিঘিতে থাকা কুমিরটিকে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, “সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় জনগণ ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বন বিভাগের সহায়তায় কুমিরটিকে রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, কুমিরটিকে আপাতত রেসকিউ সেন্টারে রেখে তার শারীরিক অবস্থা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে উপযুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত প্রায় ৮টার দিকে মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। দীর্ঘ উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানের পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং দিঘির চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে।
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category