দৈনিক প্রথম চিত্র রিপোর্ট:
লাইসেন্সহীন অটোরিকশার বেপরোয়া গতি, ব্লাইন্ড স্পট ও অব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ঝরছে প্রাণ, দুর্ঘটনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে স্পিড ব্রেকার স্থাপন ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি। জি এম ছানাউল্লাহ, সংবাদকর্মী, ভোলা
ভোলা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক ভোলা-টু-চরফ্যাশন মহাসড়ক। এই মহাসড়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইলিশা থেকে ভোলা শহর পর্যন্ত সংযোগ সড়ক, যা ভোলার প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে এক ভয়াবহ ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। বড় যাত্রীবাহী বাস চলাচল না থাকায় যাত্রীদের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজি বাইক) ও সিএনজি। বর্তমানে ইলিশা থেকে ভোলা সদরের মধ্যেই কয়েক হাজার অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করছে। কিন্তু নিরাপদ যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ার পরিবর্তে এসব যানবাহনই এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন কোনো দিন নেই যেদিন এই সড়কে ছোট-বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে না। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ আহত হচ্ছে, পঙ্গুত্ব বরণ করছে কিংবা অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
লাইসেন্সহীন চালক ও অনিরাপদ যানবাহন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতি তুলনামূলক বেশি হলেও এগুলোর ব্রেকিং সিস্টেম, সাসপেনশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে দ্রুতগতিতে চলার সময় হঠাৎ ব্রেক করলে গাড়ি উল্টে যাওয়া বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ভোলার অনেক সংবাদ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে,এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন অনেক সাংবাদিক, পা পারিয়েছেন ১ জন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব গাড়ির চালকদের বড় একটি অংশের কোনো বৈধ প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স নেই। অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদেরও বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চালাতে দেখা যায়। ট্রাফিক আইন, সড়ক সংকেত, বাঁকে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ, ইন্ডিকেটর ব্যবহার কিংবা নিরাপদ ড্রাইভিং সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম জ্ঞানও নেই। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।