তৈয়ব চৌধুরী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের ভূজপুর থানাধীন পঞ্চবটি চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন ও পূজার বোনাস বাবদ ছিনতাই হওয়া ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকার মধ্যে ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে ভূজপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ভূজপুর থানাধীন পঞ্চবটি চা-বাগানের অভ্যন্তরে মসজিদের পাশের কাঁচা রাস্তায় চা-বাগানের সহকারী ম্যানেজার নেপাল দাশ (৬০) ও পল্লী চিকিৎসক বাবুল দাশের (৫৩) ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁদের হেফাজতে থাকা চা-বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন ও পূজার বোনাসের ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পরপরই চা-বাগানের শ্রমিকদের সহায়তায় ভূজপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. আবু (২১) ও জিহান উদ্দীনকে (২৪) গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে পঞ্চবটি চা-বাগানসংলগ্ন টিলাপাড়া এলাকা থেকে মো. সম্রাট (২৪) ও মো. রাশেদকে (২৪) গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. বিকেল আনুমানিক ৪টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামি মো. জাবেদকে (৩৩) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৫০ টাকার ৬০টি নোট, সর্বমোট ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মামলা রুজুর পর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. সিরাজুল ইসলাম, পিপিএম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভূজপুর থানার চৌকস অফিসার ও ফোর্সের অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীগণের নাম-ঠিকানাঃ
১। মোঃ সম্রাট , পিতা- মোঃ আইয়ুব, থানা- ভূজপুর, জেলা- চট্টগ্রাম।
১ টি চুরির মামলা রয়েছে।
২। মোঃ রাশেদ পিতা- আবুল বশর, থানা- ভূজপুর, জেলা- চট্টগ্রাম।
১টি দস্যুতা মামলা ও ১টি মারামারি মামলা রয়েছে।
৩। মোহাম্মদ আবু , পিতা- মৃত জালাল আহাম্মদ, থানা- ভূজপুর, জেলা- চট্টগ্রাম।
৪। জিহান উদ্দীন পিতা- মোঃ আবুল হাসেম, থানা- ভূজপুর, জেলা- চট্টগ্রাম।
১টি মারামারির মামলা রয়েছে।
৫। মোহাম্মদ জাবেদ , পিতা- মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রকাশ আবু তাহের, থানা- ভূজপুর, জেলা- চট্টগ্রাম।
হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, চুরি ও মাদকসহ ৯টি মামলা রয়েছে।
জব্দকৃত আালামতঃ
১। ০১টি লোহার তৈরী ধারালো ছোরা।
২। উদ্ধারকৃত ৩০০০/-(তিন হাজার টাকা।
৩। ২টি স্মার্ট মোবাইল এবং ৩টি বাটন মোবাইল।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে হাটহাজারীর অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ৭
হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোঃ আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে হাটহাজারী থানা পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইকৃত রিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাইকৃত রিকশার ৩টি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. বিকাল সোয়া ৫টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে ভিকটিমের বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে শুরু করে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভিকটিম ও অভিযুক্তদের চলাচলের পথ শনাক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, আসামিরা বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁওয়ের সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ পাশের বিলে ফেলে দেয়। এরপর অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তী সময়ে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে সেটি রাখা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি রিকশাটি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় হাটহাজারী থানার এসআই আশিকুর রহমান, এসআই তানভীর আহমেদ ও এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা হলেন ইমরান হোসেন আপন (২৩), মোঃ বাবলু (২৫), মোঃ আকতার হোসেন (৩৬), মোঃ মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মোঃ আলাউদ্দিন (২৫)।
গ্রেফতারকৃত ইমরান হোসেন আপন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। এ ছাড়া অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের দেখানো মতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার ৩টি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপর আসামি মোঃ রাসেল (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।