রিপোর্ট: সিহাব সরকার, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সড়কের পাশে মাদ্রাসা ও কৃত্রিম হাঁস প্রজনন কেন্দ্র সংলগ্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বর্জ্য পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করলেও দুর্গন্ধের কারণে অনেককে নাক চেপে পথ পার হতে হচ্ছে। ময়লার স্তূপের চারপাশে মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এ স্থানে ময়লা ফেলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বারবার অভিযোগ করার পরও ময়লা অপসারণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায় বলে জানান তারা।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের ময়লার ভাগাড় থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে কৃত্রিম হাঁস প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রুবাইদ রেজার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ময়লার ভাগাড়ের কারণে তাদের খামারের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হাঁসের বাচ্চাগুলো বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে একটি করে হাঁসের বাচ্চা মারা যাচ্ছে। আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং ময়লা অপসারণের অনুরোধ করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
স্থানীয়দের দাবি, জনবহুল এলাকার পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগাড় ফেলে রাখার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ করে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর মতে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।