• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শুধু বই পড়ালেই প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায় না: ডিসি জাহিদ ভূজপুরে চা-বাগানের শ্রমিকদের বেতন ও পূজার বোনাসের ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনতাই সিংড়ায় জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহ্হার কামরুলের গণসংযোগ, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানকে গুরুত্ব শেরকোলে উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিসি জাহিদ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম।— সাঈদ আল নোমান এমপি যশোরে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাত সিংড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পে উদ্ধার মহড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ

গাজীপুরে সাংবাদিকের ওপর হামলার পর অভিযুক্ত রাসেলকে ঘিরে বন দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ / ৫৮ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরে সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখলের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর জয়দেবপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে গত শনিবার (২৭ জুন) রাতে তিনি বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান রাসেলকে প্রধান আসামি এবং ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সহযোগী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। ​জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত চলছে।” ​এদিকে, মামলা দায়েরের পরও পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেছেন, আজ সোমবার (২৯ জুন) আদালত থেকে জামিনে বের হয়েই আরাফাত রহমান রাসেল তাকে পুনরায় প্রাণনাশের ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। মামলা দায়েরের পর স্থানীয় বাসিন্দা, বন বিভাগের একাধিক সূত্র এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে অভিযুক্ত রাসেলের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল, অবৈধ বসতি স্থাপন, চাঁদাবাজি ও মাদক চক্র নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বারুইপাড়া বিটের বারুইপাড়া মৌজার এসএ ১৭১১ ও আরএস ৩৭৪৯ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ছয় একর সংরক্ষিত বনভূমি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করে ‘খাসপাড়া’ নামে একটি অবৈধ বস্তি গড়ে তুলেছেন রাসেল। অভিযোগ রয়েছে, এই এলাকায় অপরাধচক্রের সদস্যদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত মাদক ও জুয়ার আসর বসে। এছাড়াও, বারুইপাড়া মৌজার এক নম্বর খাস খতিয়ানের আরএস ৪২৯৮ নম্বর দাগের প্রায় ১২৫ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে, যেখান থেকে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের ভাড়া আদায় করা হয়। ​অভিযোগের এখানেই শেষ নয়; রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের আওতায় আল-আকসা মসজিদসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে ঘর নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেও বন বিভাগের ‘ডিমারকেশন’ (সীমানা নির্ধারণ) ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে রাসেলের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় রাতারাতি নিজের প্রভাব বিস্তার করেন রাসেল। অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করে তিনি মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জমি দখলের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। অতীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই অপকর্ম চালাচ্ছেন তিনি। ​বন বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, অতীতেও বন আইনে রাসেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। তবে বারুইপাড়া ও রাজেন্দ্রপুর পশ্চিম বিটের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ও উৎকোচ গ্রহণের কারণে ডিমারকেশন ছাড়াই এসব খাসজমিতে বহুতল ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের ছাড়পত্র পেয়ে যান রাসেল। সরকারি খাসজমি ও বনভূমি দখলের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সোহেল রানা বলেন, “সম্প্রতি দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয় অবগত আছেন। সরকারি জমি ও বনভূমি উদ্ধারে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ​সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে ঢাকা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) মো. ছানাউল্যা জানান, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। খুব শীঘ্রই সরেজমিন তদন্ত করে বনভূমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তদন্তে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তুলে ধরা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আরাফাত রহমান রাসেলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।​এদিকে, প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর বর্বর হামলা, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পুনরায় হত্যার হুমকি এবং সরকারি খাসজমি ও সংরক্ষিত বনভূমি লুটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা এই দখলচক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category