• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শুধু বই পড়ালেই প্রকৃত শিক্ষক হওয়া যায় না: ডিসি জাহিদ ভূজপুরে চা-বাগানের শ্রমিকদের বেতন ও পূজার বোনাসের ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনতাই সিংড়ায় জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাহ্হার কামরুলের গণসংযোগ, দুর্নীতিবিরোধী স্লোগানকে গুরুত্ব শেরকোলে উঠান বৈঠকে চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবেদিনের উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না: ডিসি জাহিদ সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত চট্টগ্রাম।— সাঈদ আল নোমান এমপি যশোরে ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাত সিংড়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পে উদ্ধার মহড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ

একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস, তারপর নিঃসঙ্গতার নির্মম বাস্তবতা মা ও তিন বোনকে হারিয়ে কবরের পাশে বাকরুদ্ধ সিফাত

হারুন অর রশিদ হোমনা, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ / ৫৬ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

“জীবনে একা চলতে শিখা দরকার, কারণ মানুষ শুধু জ্ঞান দেবে, সঙ্গ নয়।”

গত ২৯ মে নিজের ফেসবুক আইডিতে এই কথাগুলো লিখেছিলেন জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। তখন হয়তো এটি ছিল জীবনের কোনো উপলব্ধি থেকে লেখা একটি সাধারণ স্ট্যাটাস। কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেই কথাগুলোই যে তার জীবনের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হবে, তা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি সে।

লক্ষ্মীপুরের আলোচিত ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে একসঙ্গে হারিয়েছেন নিজের মা ও তিন বোনকে। যে পরিবার ছিল তার পৃথিবী, সেই পৃথিবী আজ মুহূর্তেই শূন্য হয়ে গেছে। বেঁচে আছেন শুধু তিনি—একজন অসহায়, বাকরুদ্ধ সন্তান হিসেবে।

হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের সন্তান জুনায়েদ ইসলাম সিফাত এখন যেন নীরব যন্ত্রণার এক জীবন্ত প্রতীক। সম্প্রতি মা ও তিন বোনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মানুষের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

চারটি পাশাপাশি কবর। সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত মা ও তিন বোন। আর তাদের পাশে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সিফাত। চোখে অশ্রু, মুখে কোনো ভাষা নেই। যেন সব শব্দ হারিয়ে গেছে বুকভাঙা শোকে।

স্বজনদের ভাষ্যমতে, সিফাত ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। মা ও বোনদের নিয়ে ছিল তার ছোট্ট সুখের সংসার। কিন্তু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড মুহূর্তেই কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন, সব আশ্রয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পুরোনো ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকেই বলছেন, জীবনের নির্মম পরিহাস যেন এই কয়েকটি বাক্যের মধ্যেই ধরা দিয়েছে। যে তরুণ লিখেছিলেন, “জীবনে একা চলতে শিখা দরকার”, আজ সত্যিই তাকে একাই পথ চলতে হচ্ছে।

মানুষের সহানুভূতি, সান্ত্বনা আর ভালোবাসা হয়তো তার পাশে রয়েছে। কিন্তু মা ডাকের সেই মানুষটি আর নেই, নেই বোনদের হাসিমাখা মুখ। আছে শুধু স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস আর চারটি কবর।

সিফাতের এই বেদনাময় গল্প শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি মানবিকতার কাছে এক গভীর প্রশ্ন, এক অসহনীয় শোকগাথা। তার কষ্টের ভার হয়তো কেউ ভাগ করে নিতে পারবে না, কিন্তু তার জন্য দেশের অসংখ্য মানুষের হৃদয় আজ শোকে নত হয়ে আছে।

একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে শুরু করে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃসঙ্গ তরুণ—সিফাতের জীবন যেন আজ এক হৃদয়বিদারক বাস্তবতার নাম।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category