কর্ণফুলীর শাহ আমানত নতুন ব্রিজ (তৃতীয় সেতু) এলাকাটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
সেতুর নিচের গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ ও রাস্তাটি বর্তমানে অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তিবর্গ পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের খাস জমি দখল করে নিয়মবহির্ভূতভাবে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
অবৈধ দখল ও রমরমা বাণিজ্য
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বিগত দুই বছর এলাকাটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও শান্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই সরকারি জমি দখল করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ এই এলাকাটি সরকার কর্তৃক কোনো ভারী শিল্প এলাকা হিসেবে অনুমোদিত নয়।
ভারী যান চলাচলে বিধ্বস্ত রাস্তা
ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলের ফলে রাস্তাটির অবস্থা এখন বেহাল। রাস্তাটি শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা—এই দুটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল। বর্তমানে রাস্তাটির অধিকাংশ স্থান ভেঙে জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে পড়েছে। চলমান বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট বড় বড় গর্ত ও কাদা-নর্দমায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
পরিবেশ বিপর্যয় ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি
রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বালুর স্তুপ এবং মেশিন দিয়ে ইট-পাথর ভাঙার উনমুক্ত কারখানা। এই ভাঙ্গারি মেশিন থেকে নির্গত উচ্চমাত্রার শব্দ দূষণ ও ধুলোবালি জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এছাড়া ইট-পাথর ভাঙার ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ও কার্বন মনোক্সাইড (CO) গ্যাস পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হুমকির মুখে বিনোদন কেন্দ্র
দৃষ্টিনন্দন শাহ আমানত সেতু এবং কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত হওয়ায় জায়গাটি একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয়সহ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাদ নিতে আসেন। কিন্তু অবৈধ দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে আজ সেই দর্শনীয় স্থানটি ধ্বংসের মুখে।
প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি
এলাকাবাসীর দাবি
অবিলম্বে স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে শিকলবাহা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।