গাজীপুর প্রতিনিধি:
অঝোর ধারায় নয়, টিপটিপ বৃষ্টি। চারদিকে স্নিগ্ধ সবুজের মাঝে প্রকৃতিও যেন শোকের আবহে নীরব। তবুও থেমে থাকেনি মানুষের পদচারণা। বৃষ্টিকে সঙ্গী করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে এসেছেন গাজীপুরের পিরুজালি এলাকার নুহাশ পল্লীতে। নন্দিত নাট্যকার ও কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রিয় লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মুখর হয়ে উঠেছে তাঁর স্বপ্নের এই ঠিকানা।
দোয়া ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ
দিবসটি উপলক্ষে সকালে হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংস্কৃতিকর্মী এবং হুমায়ূনভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তাঁদের সন্তানরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রয়াত এই কিংবদন্তি লেখকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আগত ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটান।
নুহাশ পল্লীতে যেন ফিরে এলো হুমায়ূনের চরিত্ররা
দিনভর নুহাশ পল্লীতে ছিল আবেগ আর ভালোবাসার এক অনন্য পরিবেশ। হলুদ পাঞ্জাবি পরে ‘হিমু’ সেজে অনেক তরুণ-তরুণীকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কেউ ছবি তুলেছেন, কেউ প্রিয় লেখকের বই হাতে স্মৃতিচারণ করেছেন, আবার কেউ বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতেছেন। যেন হুমায়ূনের গল্পের চরিত্ররাই ফিরে এসেছে তাঁর প্রিয় আঙিনায়। সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় গান পরিবেশন ও কবিতা পাঠের আসর। শিল্পীরা পরিবেশন করেন হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের গান, আর কবিরা আবৃত্তি করেন তাঁকে উৎসর্গ করা কবিতা। সারাদিনের বৃষ্টিও ভক্তদের উৎসাহে ভাটা ফেলতে পারেনি। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর ছিল নুহাশ পল্লী। দূরবর্তী ভালুকা থেকে আসা হুমায়ূন ভক্ত মনোয়ারা লিলি বলেন, "হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন লেখক নন, তিনি বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা ও জীবনের অংশ।"
জেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে আসা গণমাধ্যম কর্মী আতাউর রহমান সোহেল জানান, লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা তাঁর ভীষণ পছন্দ বলেই তিনি প্রতিবছর নুহাশ পল্লীতে আসেন। তাঁর মতে, হুমায়ূন আহমেদের লেখা সব শ্রেণীর পাঠকদের প্রেরণা দেয়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্য ও নাট্যজগতের এই কিংবদন্তি। তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশ পল্লীতে ভক্তদের এই মিলনমেলা বসে, যেখানে স্মৃতির সঙ্গে মিশে থাকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর অশ্রুসিক্ত আবেগ।